
শারদীয় দুর্গাপূজা ও সাপ্তাহিক ছুটিসহ টানা পাঁচ দিনের ছুটিতে পর্যটকদের পদচারণায় জমজমাট হয়ে উঠেছে দেশের প্রধান পর্যটন নগরী কক্সবাজার। ছুটির প্রথম দিন মঙ্গলবার সমুদ্রসৈকতের বিভিন্ন পয়েন্টে ছিল উপচে পড়া ভিড়। পর্যটন ব্যবসায়ীদের প্রত্যাশা, পাঁচ দিনে সাত লাখের বেশি পর্যটক কক্সবাজারে আসতে পারেন। এদিকে পর্যটকদের নিরাপত্তা নিশ্চিতে জোরদার করা হয়েছে নজরদারি।
মঙ্গলবার বিকেলে সৈকতের সুগন্ধা ও কলাতলী পয়েন্টে পরিবার-পরিজন ও বন্ধুদের নিয়ে সময় কাটাতে দেখা যায় পর্যটকদের। কেউ সমুদ্রের ঢেউ উপভোগ করছেন, কেউ ছবি তুলে স্মরণীয় করে রাখছেন ভ্রমণের মুহূর্ত। অনেকে ঘোড়ায় চড়া, বিচবাইক ও জেটস্কিতে চড়ার পাশাপাশি সমুদ্রে গোসল করছেন।
পর্যটকদের উপস্থিতি বেড়ে যাওয়ায় সৈকতে নিরাপত্তাব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে। লাবণী, সুগন্ধা ও কলাতলী পয়েন্টে সমুদ্রস্নানে নিরাপত্তা দিতে দায়িত্ব পালন করছেন সি-সেইফ লাইফগার্ডের সদস্যরা। উদ্ধারকর্মী মো. সেলিম উদ্দীন বলেন, দুর্ঘটনা এড়াতে পর্যটকদের সতর্ক থাকতে হবে এবং লাইফগার্ডদের নির্দেশনা মেনে সাগরে নামতে হবে।
এদিকে দীর্ঘ ছুটিকে কেন্দ্র করে কক্সবাজারের হোটেল-মোটেল ও কটেজগুলোর প্রায় ৯০ শতাংশ কক্ষ বুকিং হয়ে গেছে। কক্সবাজার হোটেল-মোটেল মালিক সমিতির সভাপতি আবুল কাশেম সিকদার জানান, পাঁচ দিনের ছুটিতে প্রতিদিন গড়ে দেড় লাখ পর্যটক আসতে পারেন। সে হিসাবে মোট পর্যটকের সংখ্যা সাত লাখ ছাড়িয়ে যেতে পারে। জেলায় পাঁচ শতাধিক হোটেল-মোটেল ও কটেজ রয়েছে।
সমুদ্রসৈকতের পাশাপাশি মেরিনড্রাইভ, হিমছড়ি ঝর্ণা, দরিয়ানগর, ইনানী ও পাটুয়ারটেকসহ জেলার অন্যান্য পর্যটনকেন্দ্রেও বেড়েছে দর্শনার্থীদের আনাগোনা।
কক্সবাজারের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. অহিদুর রহমান বলেন, পর্যটকদের নিরাপদ ভ্রমণ নিশ্চিত করতে সমুদ্রসৈকতসহ বিভিন্ন পর্যটন এলাকায় ট্যুরিস্ট পুলিশের পাশাপাশি জেলা পুলিশের দল দায়িত্ব পালন করছে।
জেলা প্রশাসনের পর্যটন সেলের সহকারী কমিশনার ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো. মাহমুদুর রহমান সায়েম জানান, পর্যটকদের নিরাপত্তা ও পর্যটন খাতের সুষ্ঠু ব্যবস্থাপনায় প্রশাসন নজরদারি করছে। কেউ যাতে অতিরিক্ত দাম নিতে বা পর্যটকদের হয়রানি করতে না পারে, সে বিষয়েও সতর্ক রয়েছে প্রশাসন।